Some Focus Written (নিরাপদ খাদ্য, Financial Inclusion, BS-1,Green Banking, S. Net Program in Bangla

  • How To Register And Download in Our Forum | রেজিস্ট্রেশন করতে পারছেন না? Click Here
  • ১. কেউ রিপ্লাই-এ ক্লিক করে কমেন্ট করবেন না। সেই কমেন্ট এপ্রুভ হবে না। কমেন্ট করার জন্য নিচে কমেন্ট বক্স ব্যবহার করুন।
    ২. দয়া করে শুধুমাত্র ধন্যবাদ, লিঙ্ক কই, লিঙ্ক নাই, Nice, Thanks, Thank You, খুব সুন্দর, এইসব এক কথার কমেন্ট আর এপ্রুভ হবে না।
    ৩. দয়া করে বাংলিশ লেখা লিখবেন না।
    ৪. যদি আপলোডাররা কষ্ট করে বই আপলোড করতে পারে, তাহলে মেম্বাররা এক লাইন কষ্ট করে লিখতে পারবে না, একথা বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়। আপলোডারদের একটু উৎসাহতো দেয়াই যায়। কি বলেন?
    ৫. গঠনমূলক কমেন্ট করুন।

Boighar

Administrator
Staff member
Jan 5, 2017
928
99,795
93
Credits
16,174
কৃতজ্ঞতাঃ মোঃ মহসিন ও বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ


জীবন ও স্বাস্থ্য-সুরক্ষায় নিরাপদ খাদ্য
আধুনিকরাষ্ট্রে নাগরিকের পাঁচটি মৌলিক অধিকারের একটি হল খাদ্যের অধিকার। নিরাপদখাদ্যের(Food Security) নিশ্চয়তা এর মধ্যেই পড়ে। বেঁচে থাকার জন্য খাদ্যজরুরি হলেও তার চেয়ে বেশি জরুরি নিরাপদ খাদ্য। কেননা, খাদ্য ও স্বাস্থ্যএকটি আরেকটির পরিপূরক। টেকসই জীবন ও সুস্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ ও পুষ্টিকরখাবারের বিকল্প নেই। অনিরাপদ খাদ্য শুধু স্বাস্থ্য ঝুঁকিরই কারণ না, বরংদেহে রোগের বাসা বাঁধারও অন্যতম কারণ। ডায়রিয়া থেকে শুরু করে ক্যান্সার— এমন দুই শতাধিক রোগের জন্য দায়ী অনিরাপদ খাদ্য।

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য মতে, প্রতিবছর প্রায় ৬০ কোটি মানুষ দূষিত খাবারখেয়ে অসুস্থ হয়। এ কারণে প্রতিবছর মারা যায় চার লাখ ৪২ হাজার মানুষ। এছাড়া, ৫ বছরের চেয়ে কম বয়সী শিশুদের ৪৩ শতাংশই খাবারজনিত রোগে আক্রান্ত হয়, যারমধ্যে প্রতিবছর প্রাণ হারায় ১ লাখ ২৫ হাজার শিশু।

খাদ্য ফসলকাটা থেকে খাদ্য গ্রহণ করার যে কোন স্তরে রাসায়নিক দ্রব্যাদি এবং জীবাণুদ্বারা বিষাক্ত বা দূষিত হতে পারে। যেমন- কৃষিতে ঢালাওভাবে রাসায়নিকদ্রব্যের ব্যবহার হচ্ছে। কৃষক বাজারজাত করার সময় খাদ্য দূষিত করছে, ক্রেতাভালো পণ্যের সঙ্গে ভেজাল পণ্যের মিশ্রণ ঘটিয়ে খাদ্যের দূষণ ঘটাচ্ছে। আবার, উৎপাদনের পরিবেশ খাদ্যের মানকে প্রভাবিত করে। বাজারের তাজা মাছ কোনপরিবেশে বড় হয়েছে, সেটি কিন্তু মাছের গুণগত মান নির্ধারণে ভূমিকা রাখে।মাছকে যে খাবার দেওয়া হয়, তা থেকেও মানুষের শরীরে জীবাণু প্রবেশ করতে পারে।সাধারণত নিরাপদ খাদ্যের ঝূঁকি দুই ধরনের:

ক. জীবাণুসংক্রান্ত দূষণ (যথা বিভিন্ন ধরনের জীবাণু, ছত্রাক ইত্যাদি)। অধিকাংশক্ষেত্রেই এ কারণে দূষিত খাদ্য মানবদেহে বিভিন্ন বিরূপ উৎসর্গের সৃষ্টিকরে।
খ. রাসায়নিক দ্রব্যাদি দ্বারা দূষণ। এর মধ্যে রয়েছে পরিবেশদূষণ সংক্রান্ত দ্রব্যাদি, পশুর ঔষধের অবশিষ্টাংশ, ভারি ধাতু অথবাঅন্যান্য অবশিষ্টাংশ যা কারো অগোচরে খাদ্যে অনুপ্রবেশ করে।

তবে খাদ্য নিরাপত্তার(Food Security) ক্ষেত্রে ভয়াবহ দিক হলো খাদ্যেঅ্যান্টিবায়োটিকের উপস্থিতি। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা শহরের১৫টি বাজার থেকে সংগৃহীত মুরগির নমুনা পরীক্ষায় অ্যান্টিবায়োটিক রেসিডিউপাওয়া গেছে। এছাড়া, খাদ্যে ফরমালিন, ভেজাল, রঙ মিশ্রণ তো আছেই। আরও আছেঅস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার উৎপাদনের প্রতিযোগিতা। বিভিন্ন সময় অভিযানচালিয়ে এসব বিষয় কিছুটা কমিয়ে আনা গেলেও তা একেবারে বন্ধ করা যায়নি।

নিরাপদ খাদ্য বাস্তবায়নে দু’টি জায়গায় কাজ করা জরুরি। তাহলেই খাদ্যকে নিরাপদ করা সম্ভব।

‘সরাসরি উৎপাদন করা কাঁচা সবজি বা মাছ কোথায় উৎপাদিত হচ্ছে;
ক. উৎপাদনের ক্ষেত্রে সেচের পানি কিংবা চাষের জমির মাটিটা নিরাপদ কিনা।
খ. নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন করতে না পারলে নিরাপদ খাদ্য সরবরাহ করার কথা চিন্তাও করা যায় না।

বাংলাদেশেরসংবিধানের ১৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সবার জন্য নিরাপদ খাদ্য(Food Security) নিশ্চিত করতে ২০১৩ সালে নিরাপদ খাদ্য আইন তৈরি করে সরকার। ২০১৫ সালের ১ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর এই আইনের আওতায় ২ ফেব্রুয়ারি গঠন করা হয় বাংলাদেশনিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশে ২৫ লাখক্ষুদ্র বা অপ্রাতিষ্ঠানিক ব্যবসায়ী ও ১৮টি মন্ত্রণালয় প্রত্যক্ষ বাপরোক্ষভাবে নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত। এ ছাড়া দেশে প্রায়৪৮৬টি প্রতিষ্ঠান আছে, যারা খাদ্যদ্রব্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এসবপ্রতিষ্ঠানের অধীন প্রায় ১২০টি আইন ও নীতিমালা রয়েছে। ৬৪টি জেলায় ও আটটিবিভাগীয় শহরে ৭৪টি নিরাপদ খাদ্য আদালত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। নিরাপদ খাদ্য আইনমেনে চলার জন্য মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। এ ছাড়া বিভিন্নগবেষণামূলক প্রতিষ্ঠান ও পেশাজীবী নানা সংগঠনের সঙ্গে সম্মিলিতভাবেবিধিমালাগুলো প্রণয়নের কাজ অব্যাহত রেখেছে।

কোনো খাদ্যবাজারে বিক্রয়ের জন্য ক্রেতার বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করা জরুরি। এ জন্যপণ্য সম্পর্কে সঠিক তথ্য ক্রেতার সামনে উপস্থাপন করতে হবে। রাস্তার অনিরাপদখাদ্যের চেয়ে বিশেষ সংস্থার মাধ্যমে ঘোষিত নিরাপদ খাদ্যের ওপর ভোক্তাবেশি আস্থাশীল এবং সে খাবার গ্রহণ করতেই বেশি আগ্রহী হয়। এ ক্ষেত্রেখাবারের প্যাকেটে এর গুণগত মান, মেয়াদ, অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি তথ্যদিতে হবে; যা জানা একজন ভোক্তার অধিকার।


নিরাপদ খাদ্য (Food Security) নিশ্চিত করার জন্য পণ্য উৎপাদন, সরবরাহ ও বিপণন—প্রতিটিপর্যায়েই সচেতনতা প্রয়োজন। এই প্রেক্ষিতে নিরাপদ খাদ্য (Food Security) নিশ্চিতকরণে নাগরিক সমাজের ঢাকা ঘোষণা নিম্নরূপ:

১. সবার জন্য নিরাপদ খাদ্য (Food Security) নিশ্চিত করতে হলে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী জোরদার করতে হবে।
২. নিরাপদ খাদ্য (Food Security) ভ্যালুচেইন শক্তি শালী ও ফলপ্রসু করতে হলে নিরাপদ খাদ্যে অর্থায়ন বৃদ্ধি করতে হবে।
৩. নিরাপদ খাদ্যে (Food Security) অর্থায়নের জন্য একটি বিশেষ তহবিল গঠন পূর্বক বিশেষ কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে।
৪. ‘যুবরাই আমাদের ভবিষ্যত’। সে কারণে নিরাপদ খাদ্য প্রসারের অভিযানে যুবদের অগ্রাধিকার দিতে হবে।
৫. নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও বিপণনে কমিউনিটি এন্টারপ্রাইজ গঠনে সহায়তা প্রদান করতে হবে।
৬.যথাযথপ্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তা দেয়ার মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য প্রসারে সামাজিকউদ্যোগ সৃষ্টির মাধ্যমে বেকারত্ব অবসানের পাশাপাশি সকলের জন্য নিরাপদ খাদ্যপ্রাপ্তি সহজতর করতে হবে।
৭. নিরাপদ খাদ্য (Food Security) গবেষণা কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।
৮. প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকেই নিরাপদ খাদ্য (Food Security) বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নিতে হবে।
৯. ‘খাদ্যমান মনিটরিং’ ব্যবস্থাপনা জোরদার করতে হবে। প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগেরপাশাপাশি এক্ষেত্রে ‘সামাজিক প্রত্যয়ন’ বা ‘পিজিএস’ ব্যবস্থাকে উৎসাহিতকরতে হবে।
১০. নিরাপদ খাদ্যে অর্থায়ন বৃদ্ধির জন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান সমূহকে এগিয়ে আসতে সহায়ক নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।
১১. খাদ্য অধিকার ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করণের লক্ষ্যে ‘গণমুখী নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা’ গড়ে তুলতে হবে।
১২. পর্যটন শিল্পকে অগ্রাধিকার দিয়ে নিরাপদ খাদ্য সম্পর্কে প্রচারণা জোরদার করার পদক্ষেপ নিতে হবে।
১৩. নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩ যথাযথ ভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সামাজিক উদ্যোগকে পৃষ্ঠপোষকতা দিতে হবে।
১৪.আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে তবে আইন প্রয়োগের নামে খাদ্য উৎপাদন ওবিপণনে নিয়োজিত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে হয়রানির হাত থেকে রক্ষা করতে হবে।
১৫. ‘জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ‘নিরাপদ খাদ্যসহায়ক (সেফ ফুড ফ্যাসিলিটেটর)’ বা অনুরূপ সম্মাননা প্রদানের বিধান করতেহবে।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য নেটওয়ার্ক (বিএফএসএন) দেশেরনাগরিক সমাজের প্লাটফরম হিসেবে কাজ করছে। এই নেটওয়ার্ককে আরও শক্তিশালীওআরও বিস্তৃত করার জন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা গ্রহণ করতে আহ্বান জানানোহয়।

সবশেষে, দেশে প্রায় ২৫ লাখ খাদ্য ব্যবসায়ী রয়েছে। তাদেরমধ্যে ১৫ লাখ প্রত্যক্ষ ও ১০ লাখ পরোক্ষভাবে জড়িত। ব্যবসায়ীদের বেশির ভাগইঅপ্রাতিষ্ঠানিক। তাদের মধ্যে রয়েছে ক্ষুদ্র দোকানদার ও ফেরিওয়ালা। খাদ্যব্যবস্থাপনায় জড়িত রয়েছে প্রচুর প্রতিষ্ঠান। তাই নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করারক্ষেত্রে উৎপাদক, বিপণনকারী, ভোক্তা—সবাইকেই সচেতনতা ও দায়িত্বশীলতারপরিচয় দিতে হবে। রাষ্ট্রকে আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। যেহেতুআমাদেরবেঁচে থাকার প্রধান নিয়ামক হচ্ছে খাদ্য, সেহেতু এই খাদ্যকে নিরাপদ এবংস্বাস্থ্যানুকূল রাখার দায়িত্ব আপনার আমার সকলের
।​


Financial Inclusion in Bangladesh: Focus Writing
বাংলাদেশের ব্যাংকিং অঙ্গনে বর্তমানে ‘Financial Inclusion’ ধারণাটি সবচেয়ে বেশি আলোচিত। মূলত স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু উপায়ে ব্যাংকের মাধ্যমে আর্থিক সেবাবঞ্চিত সাধারণ মানুষের কাছে সাধ্যের মধ্যে সঠিক আর্থিক সেবা পৌঁছানোর কৌশলগত প্রক্রিয়ার নামই ‘আর্থিক অন্তর্ভুক্তকরণ’ বা ‘Financial Inclusion’।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর অধ্যাপক ড. আতিউর রহমান বলেন, গ্রাহক হিসেবে বিভিন্ন আয়ের মানুষের উপস্থিতি পুরো আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা বাড়ায়। অন্যদিকে আর্থিক সেবা খাত যদি স্থিতিশীল থাকে তবে আর্থিক সেবার ক্রয়মূল্য কমে আসে। এর ফলে আরো বেশি বেশি গ্রাহক আর্থিক সেবা নিতে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। অর্থাৎ আর্থিক সেবা খাতের স্থিতিশীলতার ফলেও Financial Inclusion ঘটে।”

এ কথা সত্য যে, প্রতিযােগিতামূলক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বাস্তবতায় উন্নয়নশীল একটি দেশের এগিয়ে চলার জন্য Financial Inclusion একটি অন্যতম হাতিয়ার। তাই দেশের টেকসই অর্থনৈতিক কাঠামাে গড়ে তােলার লক্ষ্যে আর্থিক সেবা বঞ্চিত ও তৃণমূল পর্যায়ের বিশাল জনসাধারণকে Financial Inclusion এর আওতায় নিয়ে আসার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। যেমন:

০১। সমাজের সুবিধা বঞ্চিত এবং আর্থিক সেবা বহির্ভূত জনগােষ্ঠীকে ব্যাংকিং সেবার আওতায় নিয়ে আসার জন্য বিভিন্ন সময়ে সার্কুলার জারি করে ন্যূনতম ১০ টাকা জমাকরণের মাধ্যমে কৃষক, তাঁতি, পরিচ্ছন্নতা কর্মী, পাদুকা ও চামড়াজাত পণ্য প্রস্তুতকারী ক্ষুদ্র কারখানার কারিগর, তৈরি পােশাক শিল্পে কর্মরত শ্রমিক, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ও সকল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিসহ বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষের জন্য ব্যাংকে হিসাব খােলার কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। সর্বশেষ ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এ কাতারে যুক্ত হয়েছে বিলুপ্ত ছিটমহলবাসীগণ। বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ডে একীভূত ১১১টি পূর্বতন ছিটমহলবাসীগণ যাতে ১০ টাকায় ব্যাংক হিসাব খুলতে পারে সেজন্য বাংলাদেশ ব্যাংক হতে সকল তফসিলি ব্যাংককে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। ৩১ ডিসেম্বর ২০১৭ পর্যন্ত এ খাতে প্রায় ১,৭৪,৩৩,২১৭টি হিসাব খােলা হয়েছে।

০২। আর্থিক সেবাবঞ্চিত তৃণমূল জনগােষ্ঠী, ক্ষুদ্র/প্রান্তিক/ভূমিহীন কৃষক, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত নিম্ন আয়ের পেশাজীবীদের প্রাতিষ্ঠানিক আর্থিক সেবাভুক্তির আওতায় নিয়ে আসার লক্ষ্যে এবং তাদের আয় উৎসারী কর্মকাণ্ডকে বিস্তৃত করার উদ্দেশ্যে তাদেরকে সহজতর শর্তে ঋণ প্রদানের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব উৎস থেকে ২০০ কোটি টাকার একটি আবর্তনশীল পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করা হয়েছে। উক্ত তহবিল হতে একজন গ্রাহক এককভাবে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার এবং দলগতভাবে ৫ লক্ষ টাকা ঋণ গ্রহণ করতে পারে। গ্রাহক পর্যায়ে এ ঋণের সর্বোচ্চ সুদ হার ৯.৫ শতাংশ যা ক্রমহ্রাসমান স্থিতির ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়। এ স্কীমের আওতায় ফেব্রুয়ারি ২০১৮ পর্যন্ত গ্রাহক পর্যায়ে প্রায় ৮১.১৯ কোটি টাকার ঋণ সুবিধা প্রদান করা হয়েছে। এই পর্যন্ত ৪০টি ব্যাংক এই স্কীমের আওতায় অংশগ্রহণমূলক চুক্তি সম্পাদন করেছে।

৩। পথশিশু ও কর্মজীবী শিশুদের কষ্টার্জিত অর্থ ব্যাংকে জমা করা ও তাদের ভবিষ্যত সুরক্ষার জন্য ২০১৪ সালে চালুকৃত ১০ টাকার বিশেষ হিসাব খােলার নীতিমালা শিথিল করা হয়েছে। বর্তমানে পথশিশু ও কর্মজীবী শিশু-কিশােরদের পিতামাতা (Biological Parents) থাকলে, সেক্ষেত্রে পিতা ও মাতার মধ্যে যে কোন একজন এবং পথশিশু ও কর্মজীবী শিশুকিশােরের যৌথ স্বাক্ষরে হিসাবটি পরিচালনা করা যাবে। উল্লেখ্য, ডিসেম্বর ২০১৭ পর্যন্ত পথশিশু ও কর্মজীবী শিশুদের নামে খােলা হিসাব সংখ্যা ৪,৫৪৪ টি এবং জমার পরিমাণ ২৭.১১ লক্ষ টাকা। পথশিশুদের মধ্যে ব্যাংকে হিসাব খােলা বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির জন্যও Save the children, USA এর সাথে যৌথভাবে বেশ কিছু কার্যক্রম চলমান রয়েছে ।

ক্রম বিবরণ হিসাব সংখ্যা (ডিসেম্বর/২০১৭) জমার পরিমাণ
০১ ১০ টাকায় ব্যাংক হিসাব ১,৭৪,৩৩,২১৭টি
০২ পথশিশু ও কর্মজীবী শিশুদের নামে খােলা হিসাব ৪,৫৪৪ টি ২৭.১১ লক্ষ
০৩ স্কুল ব্যাংকিং ১৪,৫৩,৯৩৬টি ১,৩৬২.৯৬ কোটি
সোর্স: অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০১৮

০৪। Financial Inclusion কার্যক্রমের অন্যতম একটি পদক্ষেপ হল স্কুল ব্যাংকিং। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে তাদেরকে দেশের আর্থিক সেবার আওতায় নিয়ে আসা হলাে স্কুল ব্যাংকিংয়ের লক্ষ্য। ৩১ ডিসেম্বর ২০১৭ তারিখ পর্যন্ত সর্বমােট ১৪,৫৩,৯৩৬টি স্কুল ব্যাংকিং হিসাব খােলা হয়েছে। উক্ত হিসাবসমূহের বিপরীতে মােট জমা হয়েছে ১,৩৬২.৯৬ কোটি টাকা। বাংলাদেশে কার্যরত ৫৭টি তফসিলি ব্যাংকের মধ্যে ৩১ ডিসেম্বর ২০১৭ তারিখ পর্যন্ত মােট ৫৬টি ব্যাংক স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে। স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রমকে অধিকতর গতিশীলকরণে ম্যানুয়াল পদ্ধতির পরিবর্তে অনলাইন/মােবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস পদ্ধতি ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের টিউশন ফিসহ অন্যান্য সকল প্রকার ফি/চার্জ সংগ্রহের উদ্যোগ গ্রহণে ব্যাংকগুলােকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

০৫। এখনো দেশের অনেক প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ ব্যাংকিং সেবার সঙ্গে যুক্ত হতে পারেননি। তাদের অধিকাংশই গ্রামীণ এলাকার সাধারণ মানুষ। তাই গ্রামীণ জনপদের মানুষের কাছে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছাতে ব্যাংকগুলোর অন্তত অর্ধেক শাখা পল্লী অঞ্চল বা গ্রামে খোলার জন্য নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে শহরের চেয়ে গ্রামেই এখন ব্যাংকের শাখা বেশি। দেশে বর্তমানে ব্যাংক শাখার সংখ্যা ৯৭২০, যার মধ্যে অর্ধেকের বেশি পল্লী শাখা।

০৬। Financial Inclusion এর অভিযানকে আরেক ধাপ এগিয়ে নিতে এজেন্ট ব্যাংকিং নীতিমালা প্রণয়ন করেছে বাংলাদেশে ব্যাংক। সারা দেশে নেটওয়ার্ক আছে, এমন প্রতিষ্ঠান ছাড়াও শিক্ষিত ও প্রযুক্তিনির্ভর কাজে দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তিও ব্যাংকের এজেন্ট হতে পারবেন। এজেন্টের মাধ্যমে ব্যাংকগুলো তাদের কিছু কিছু ব্যাংকিং সেবা যেমন বৈদেশিক রেমিট্যান্স বিতরণসহ স্বল্প পরিমাণের অর্থ জমা ও উত্তোলন, ব্যাংক হিসাব খোলার কাগজপত্রাদি বিতরণ ও সংগ্রহ, ছোট আকারের ঋণ বিতরণ ইত্যাদি কার্যক্রম প্রত্যন্ত অঞ্চলের জনপদে পৌঁছে দিতে পারবে। এরই মধ্যে কয়েকটি ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করেছে।

০৭। ক্ষুদ্র ঋণের মাধ্যমে বাংলাদেশে গরিব মানুষের অবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি Financial Inclusion এর প্রসার ঘটছে। বাংলাদেশ ব্যাংক Financial Inclusion এর বিভিন্ন উদ্যোগের সঙ্গে ক্ষুদ্র ঋণ সংস্থাকে নানাভাবে যুক্ত করেছে। যেসব ব্যাংকের পর্যাপ্ত শাখা নেটওয়ার্ক নেই, সেগুলোকে এমএফআই লিংকেজের মাধ্যমে এসএমই ও কৃষিঋণ বিতরণে উত্সাহিত করা হয়েছে। এখন ক্ষুদ্র ঋণের একটি বড় অংশের জোগান দিচ্ছে ব্যাংকিং খাত। বর্তমানে প্রায় তিন কোটি গরিব মানুষ গ্রামীণ ব্যাংক ও ৭০০ এমএফআইয়ের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ঋণসেবা পাচ্ছে।

সবশেষে, Financial Inclusion একক কোনো দেশের নয়, এটি এখন বৈশ্বিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। সারা বিশ্বই এখন Financial Inclusion প্রসারে বিশেষ মনোযোগ দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এরই মধ্যে অ্যাসোসিয়েশন অব ফিন্যান্সিয়াল ইনক্লুশনের (এএফআই) সদস্যপদ লাভ করেছে। ফলে খুব সহজেই সহযোগী রাষ্ট্রসংঘের Financial Inclusion সহায়ক তথ্য-উপাত্ত সম্পর্কে অবগত হয়ে বাংলাদেশের জন্য উপযোগী নীতিমালা তৈরি করা সম্ভব হয়েছে।

ড. আতিউর বলেন, বর্তমানে জাতীয় অর্থনীতিতে যে স্থিতিশীল অবস্থা দেখা যাচ্ছে তার কৃতিত্ব বহুলাংশে বাংলাদেশ ব্যাংকের Financial Inclusion কৌশলের। তিনি বলেন, যথাযথ Financial Inclusion নিশ্চিত করা গেছে বলেই আশেপাশের দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের সম্ভাব্য প্রবৃদ্ধির চিত্র উজ্জ্বলতর হয়েছে; মুদ্রস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে; ডলারের সাথে টাকার বিনিময় হার স্থিতিশীল রয়েছে; মাথাপিছু আয় ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের অবস্থাও অত্যন্ত সন্তোষজনক পর্যায়ে রয়েছে।



Benefits of Bangabandhu-1 satellite(Bangla Version)
“বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট বাংলাদেশকে একটি উন্নত দেশের কাতারে যেতে সাহায্য করবে। এটি আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অনেক ক্ষেত্রে গতি এনে দেবে “, বিটিআরসি চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ ঢাকা ট্রিবিউনকে একথা বলেন।

টেবিলটিতে দেখা যাচ্ছে যে, রয়েছে 1738 টি সক্রিয় উপগ্রহ (আগস্ট 2017 আপডেট অনুযায়ী), বিভিন্ন কর্মের জন্য সরকারি ও বেসরকারি উভয় গ্রহ, এই গ্রহটির ঘিরে। তাদের মধ্যে, 742 উপগ্রহ যা ভূতাত্ত্বিক প্রকৃতির, অবিচ্ছিন্ন এবং মসৃণ যোগাযোগ পরিচালনা করতে ব্যবহৃত হয়।

You must be registered for see images

১. এটি 30 টি টেলিভিশন চ্যানেলের জন্য স্যাটেলাইট ব্যয় হিসেবে প্রতি বছর 120 কোটি টাকা বাঁচাবে;
২. এটি ইন্টারনেট, ভি-স্যাট এবং রেডিও সহ 40 টি পরিষেবা প্রদানে একটি বিশেষ ভূমিকা পালন করবে;যেহেতু ভারত ও পাকিস্তানের নিজস্ব স্যাটেলাইট রয়েছে এবং শ্রীলংকাও এই সারিতে আসার সারিতে রয়েছে, সেহেতু বাংলাদেশ নেপাল, মিয়ানমার বা ভুটানকে সেবা দিতে পারে এবং প্রতিবছর $ 50 মিলিয়নের বেশি আয় করতে পারে;
৩. ব্যাংক ও কর্পোরেট অফিসে ব্যবহারের জন্য এটিতে VSAT প্রাইভেট নেটওয়ার্ক থাকবে যার মধ্যে রয়েছে ভয়েস, ডেটা, ভিডিও এবং ইন্টারনেট সেবা ইত্যাদি;
৪. এটি video distribution কে আরও সহজ করে তুলবে এবং ব্রডকাস্টাররা তাদের প্রোগ্রামগুলিকে ডিটিএইচ অপারেটরদের মতো ক্যাবল টিভি নেটওয়ার্কের অপারেটরদের কাছে সরবরাহ করতে পারবে;
৫. দেশে অপ্রত্যাশিত বিপর্যয়ের জরুরী অবস্থার সময়, নিরবচ্ছিন্ন টেলিকমিউনিকেশন সেবা নিশ্চিত করতে স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে;
৬. উপকূলীয় এলাকার মত দেশের দূরবর্তী এলাকায় আরও ভাল ইন্টারনেট সংযোগ দেয়া যাবে।

পরিশেষে, বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের একটি নতুন অগ্রগতি অর্জন করবে। এই স্যাটেলাইটটি দেশকে একটি বৃহৎ পরিমাপের, বিশ্বমানের, নির্ভরযোগ্য, বহুমুখিত এবং সুপার পারফরম্যান্স অর্জনের একটি দীর্ঘমেয়াদী সেবা প্রদান করবে।



সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী বা Social Safety Net Program
রাষ্ট্র কর্তৃক দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে আর্থিক বা অন্য কোন সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থাই সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী বা Social Safety Net Program।

বিগত প্রায় তিন দশকে বাংলাদেশে এ ব্যবস্থার মাত্রা, আকার ও ধরনের প্রসার ঘটেছে। এই প্রেক্ষিতে বিগত ৫ বছরে Social Safety Net খাতে বাজেট বরাদ্দ ও GDP তে এর অবদানের পরিসংখ্যান দেখানো হল:

Social Safety Net কার্যক্রম
FY Amount(Fig in Crore) % of budget% of GDP


2017-18 54,205.89 13.54 2.44
2016-17 40,857.00 12.88 2.09
2015-16 35,975.00 13.60 2.08
2014-15 30,751.11 12.28 2.30
2013-14 26,654.01 12.33 2.26
উৎসঃ অর্থনৈতিক সমীক্ষা- ২০১৩-১৪ থেকে ২০১৭-১৮

বাংলাদেশে বাস্তবায়িত Social Safety Net কর্মসূচিসমূহকে Social Safety Net বিষয়ক জীবনচক্র পদ্ধতির ভিত্তিতে পাঁচটি গুচ্ছে বিন্যস্ত করা হয়েছে। মূল গুচ্ছভিত্তিক কর্মসূচিগুলাে হলাে:
ক. শিশুদের জন্য কর্মসূচি
খ. কর্ম উপযােগী নাগরিকদের জন্য কর্মসূচি
গ, বয়স্কদের জন্য পেনশন ব্যবস্থা
ঘ. প্রতিবন্ধীদের জন্য কর্মসূচি এবং
ঙ. ক্ষুদ্র ও বিশেষ কর্মসূচি।

উক্ত গুচ্ছের মধ্যে থেকে দারিদ্র্য বিমোচন কৌশলপত্র (পিআরএসপি) ১৮টি Social Safety Net কর্মসূচি চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু খাতে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বরাদ্দের পরিমাণ ও এ বিষয়ে সংক্ষেপে আলোচনা করা হল:

ক্রম বিবরণ বরাদ্দ(কোটি টাকায়)
১ বয়স্ক ভাতা কর্মসূচি ২,১০০.০০
২ প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র (ওয়ান স্টপ সার্ভিস) ৬৫.০০
৩ প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি কর্মসূচী ৫৪.৫০
৪ বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা দুঃস্থ মহিলা ভাতা কার্যক্রম ৭৫৯.০০
৫ মুক্তিযােদ্ধা সম্মানী ভাতা ৩,২০০.০০
৬ শহীদ পরিবার ও যুদ্ধাহত মুক্তিযােদ্ধাদের চিকিৎসা ও সম্মানী ভাতা ২৫৯.৩৬
৭ দরিদ্র মায়েদের মাতৃত্বকালীন ভাতা ৩৬০.০০
৮ কর্মজীবী ল্যাকটেটিং মাদার সহায়তা তহবিল ১২০.০০
৯ অসচ্ছল প্রতিবন্ধীদের জন্য ভাতা ও শিক্ষা ৬৯৩.০০
১০ বেদে ও অনগ্রসর জনগােষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কার্যক্রম ২৭.০০
১১ হিজড়া জনগােষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কার্যক্রম ১১.৩৫

১। দেশের মােট জনসংখ্যার বড় একটি অংশ বয়স্ক তথা শ্রম বাজারের সাথে সম্পৃক্ত নয়। এদের অনেকেই দারিদ্রক্লিষ্ট। অবহেলিত বয়স্ক এসব জনগােষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নতির লক্ষ্যে ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছর থেকে সরকার বয়স্ক ভাতা কার্যক্রম চালু করে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধিভুক্ত বয়স্ক ভাতা কর্মসূচির আওতায় ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ২,১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। এ কার্যক্রমের আওতায় ৩৫ লক্ষ বয়স্ক লােককে জনপ্রতি মাসিক ৫০০ টাকা করে ভাতা প্রদান করা হচ্ছে।

২। দেশের প্রতিবন্ধী জনগােষ্ঠীকে বিনামূল্যে ফিজিওথেরাপি ও অন্যান্য চিকিৎসা সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে ২০০৯-১০ অর্থবছরে প্রথমবারের মত প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র চালু করা হয়। এ খাতে চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরে মােট ৩ লক্ষ ৭৬ হাজার জন প্রতিবন্ধীকে সহায়তার লক্ষ্যে ৬৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

৩। প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে ২০০৭-০৮ অর্থবছর হতে শিক্ষা উপবৃত্তি কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে মােট ৮০ হাজার প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তি প্রদানের জন্যে মােট ৫৪.৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এছাড়া, প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের জন্যও বিশেষ মঞ্জুরি প্রদান করা হচ্ছে।

৪। ১৯৯৯-২০০০ অর্থবছর থেকে দরিদ্র, অসহায় ও অবহেলিত মহিলা জনগােষ্ঠী বিশেষ করে বিধবাদের জন্য ভাতা প্রদান কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে মােট ১২.৬৫ লক্ষ বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা দুঃস্থ মহিলাকে ভাতা প্রদান করা হচ্ছে। এ খাতে মােট ৭৫৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। জনপ্রতি মাসিক ৫০০ টাকা হারে এ ভাতা প্রদান করা হয়।

৫। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযােদ্ধাদের জীবনযাত্রার মানােন্নয়নে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। বর্তমানে বীরশ্রেষ্ঠদের ৩৫ হাজার টাকা, বীর উত্তমদের ২৫ হাজার টাকা, বীর বিক্রমদের ২০ হাজার টাকা এবং বীর প্রতিকদের ১৫ হাজার টাকা করে মাসিক সম্মানী প্রদান করা হয়। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে মুক্তিযােদ্ধার সম্মানী ভাতা বাবদ ৩,২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। কর্মসূচিটি মুক্তিযােদ্ধাদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।

৬। মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের পরিবারবর্গ ও যুদ্ধাহত মুক্তিযােদ্ধাদের কল্যাণেও সরকার কাজ করছে। শহীদ পরিবার ও যুদ্ধাহত মুক্তিযােদ্ধাদের চিকিৎসা ও সম্মানী ভাতার জন্যে পৃথক কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জন্য শহীদ পরিবার ও যুদ্ধাহত মুক্তিযােদ্ধাদের চিকিৎসা ও সম্মানী ভাতা ২৫৯.৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

৭। ২০০৭-০৮ অর্থবছরে প্রথমবারেরমত মাতৃত্বকালীন ভাতা প্রদান চালু করা হয়। এর আওতায় মূলত পল্লী এলাকার দরিদ্র মায়েদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়ে থাকে। এ কার্যক্রমের আওতায় দরিদ্র গর্ভবতী মহিলাদের ভাতা প্রদানের পাশপাশি স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেয়া হয়ে থাকে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এ খাতে ৩৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। জনপ্রতি মাসিক ৫০০ টাকা করে ৬ লক্ষ দরিদ্র মায়েদের এ ভাতা প্রদান করা হবে।

৮। ২০১০-১১ অর্থবছর থেকে শুরু হওয়া কর্মজীবী ল্যাকটেটিং মাদার সহায়তা তহবিল এর মাধ্যমে শহরাঞ্চলে কর্মজীবী দরিদ্র মায়েদের মাতৃত্বকালীন স্বাস্থ্য ও তাদের গর্ভস্থ সন্তান বা নবজাত শিশুর পরিপূর্ণ বিকাশে সহায়তার উদ্দেশ্যে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও চট্টগ্রাম গার্মেন্টস এলাকায় অবস্থিত কর্মজীবী ল্যাকটেটিং মা, ৬৪ জেলা সদরস্থ সিটি কর্পোরেশন/পৌরসভা এবং ৩২৪টি উপজেলা পর্যায়ের পৌরসভাকে এই কার্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত রাখা হয়েছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে মােট ২ লক্ষ কর্মজীবী দরিদ্র মাকে এ সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে ১২০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

৯। অসচ্ছল প্রতিবন্ধীদের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকারের হয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। জনপ্রতি মাসিক ৭০০ টাকা হারে এই ভাতা প্রদান করা হচ্ছে। চলতি অর্থবছরে এ বাবদ মােট ৬৯৩ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

১০। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২০১২-১৩ অর্থবছর থেকে বেদে ও অনগ্রসর জনগােষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু হয়। কতিপয় অপরিহার্য পেশার সঙ্গে সম্পৃক্ত দলিত, হরিজন ও বেদে সম্প্রদায়কে সমাজের মূল স্রোতধারায় নিয়ে আসতে প্রাথমিকভাবে ৭টি জেলায় পরীক্ষামূলকভাবে এ কার্যক্রম চালু করা হয়। চলতি অর্থবছরে এ কার্যক্রমের আওতায় ২৫ হাজার জনকে সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং এ খাতে ২৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

১১। পারিবারিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে অবহেলিত হিজড়া সম্প্রদায়কে সমাজের মূল স্রোতধারায় নিয়ে আসতে সরকার কাজ করছে। হিজড়াদের সার্বিক উন্নয়নে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে ২০১২-১৩ অর্থবছরে প্রথমবারের মত ৭টি জেলায় এ কার্যক্রম চালু করা হয়। বর্তমানে সকল জেলায় এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৭ হাজার হিজড়াকে সহায়তার লক্ষ্যে ১১.৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে।

পরিশেষে, Social Safety Net Program এর পরিধি ও প্রসার বিবেচনায় নিয়ে এর ব্যয় সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা শেষে অর্থাৎ ২০২০ সালে জিডিপি’র ৩ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে। গ্রামীণ জনগােষ্ঠীকে সঞ্চয়ে উৎসাহিত করা এবং সেই সঞ্চয় গ্রামীণ অর্থনীতিতে ব্যবহার করার লক্ষ্যে একটি পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠানে ২০১৮ সালের মধ্যে পেনশন ব্যবস্থা প্রচলনের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এছাড়া, ২০২১ সালে সকলের জন্য Social Safety নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি জাতীয় পেনশন ব্যবস্থা চূড়ান্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। Social Safety Net কর্মসূচি ফলপ্রসূ করার লক্ষ্যে নীতি ও কৌশল নির্ধারণপূর্বক একটি জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশল (National Social Security Strategy) প্রণয়ন করা হয়েছে।


Green Banking
Green Banking এখন সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে। কেননা, প্রাকৃতিক পরিবেশকে উপেক্ষা করে পৃথিবীতে কিছুই করা যায় না। জলবায়ু ও পরিবেশ যদি বিপন্ন হয় তাহলে অর্থনীতিও বিপন্ন হয়। ফলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সামগ্রিক সমৃদ্ধির জন্য পরিবেশগত ভারসাম্য ও অনুকূল প্রাকৃতিক পরিবেশ বজায় রাখার জন্য অর্থনীতিতে Green Banking ধারণার প্রচলন হয়েছে।

এ আলোকে Profit Maximization এর পাশাপাশি সামাজিকভাবে দায়বদ্ধ, পরিবেশ বান্ধব প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিশ্ব উষ্ণায়ন, কার্বন নি:সরণ, পরিবেশ দূষণ, জলবায়ু পরিবর্তন ইত্যাদির ব্যাপকতা রোধ করে বিশ্বকে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য পরিবেশগত বিপর্যয় এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সীমিত প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষনে বদ্ধ-পরিকর, তথ্য প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার ও দক্ষতার সাথে প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং সেবা জনগণের কাছে পৌঁছে দেয়ার পথ অনুসরণকারী ব্যাংকিং কার্যক্রমই হচ্ছে Green Banking।

অর্থাৎ Green Banking হল পরিবেশ সহায়ক একটি উপায় – একটি ইকো বন্ধুত্বপূর্ণ ব্যাংকিং পদ্ধতি । এটি এক ধরনের নীতিগত ব্যাংকিং, যা সামাজিকভাবে দায়বদ্ধ এবং টেকসই ।

Green Banking এর মূল আদর্শ

  • মূলত Green Banking যথাসম্ভব কাগজের অপচয় এড়াতে সাহায্য করে এবং অনলাইন বা ইলেক্ট্রনিক লেনদেন উপর নির্ভরশীলতা বৃদ্ধি করে। যত কম কাগজের ব্যবহার হবে ততো কম গাছ নিধন হবে ।
  • একটি পরিবেশ বান্ধব ব্যবসা যা আমাদেরকে পরিবেশগত ও সামাজিক দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন করে তোলে।
  • ব্যাংকসমূহের কাজ হচ্ছে পরিবেশ বান্ধব কাজের মাধ্যমে জনগণকে সচেতন করা ও তাদেরকে সম্পৃক্ত করে বিশ্বকে ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য বসবাস উপযোগী করে তোলা ।
  • বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড়, নদী ভাঙন অর্থাৎ প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের জন্য কম সুদে ঋণ ব্যবস্থা করা।
  • ব্যাংকের পরিবহন কাজে পেট্রোল, ডিজেল, অকটেনচালিত গাড়ির বদলে প্রাকৃতিক গ্যাস চালিত গাড়ির ব্যবহার বৃদ্ধি করা ।
  • Green Banking এর মাধ্যমে পরিবেশের ক্ষতি হয় এমনসামগ্রী বর্জন করে পরিবেশ বান্ধব নতুন নতুন গ্রীন সামগ্রী ব্যবহার করে পরিবেশগত সমস্যা দূর করা ।
  • পরিবেশের বিরোধী শিল্প ও ব্যবসায়ে ঋণের হার কমানো এবং ঋণের একটি নির্দিষ্ট অংশ পরিবেশ বান্ধব শিল্প ও ব্যবসায়ে বিনিয়োগ করা।
  • পরিবেশবান্ধব অবকাঠামোসহ অন্যান্য পরিবেশবান্ধব খাতে অর্থায়ন করা ।
  • বিদ্যুৎ, গ্যাস, জ্বালানির ব্যবহার কমানো ।
  • সৌরশক্তি, বায়োগ্যাসের ব্যবহার বৃদ্ধি করা ।
  • শিল্প কল-কারখানায় বিষাক্ত গ্যাস নির্গমন হ্রাস করা ।
এই আদর্শকে সামনে রেখে ২০০৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করা গ্রীন ব্যাংকিং কার্যক্রমকে ফলপ্রসূ করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১১ তারিখের বিআরপিডি সার্কুলার নং ০২-এর মাধ্যমে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করে।

উক্ত নীতিমালার আলোকে গ্রীন ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনায় বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক ইতিমধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে –

  1. নীতিমালা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়ন
  2. এ খাতে আলাদা বাজেট বরাদ্দ এবং তার সদ্ব্যবহার
  3. ইউনিট গঠন
  4. পরিবেশ ঝুঁকি রেটিং
  5. গ্রীন ফাইনান্সিং
  6. জলবায়ু ঝুঁকি মােকাবেলায় ফান্ড গঠন এবং এর ব্যবহার
  7. গ্রীন মার্কেটিং
  8. সক্ষমতা সৃষ্টি
  9. অনলাইন ব্যাংকিং এর বিকাশ
  10. অভ্যন্তরীণ পরিবেশ ব্যবস্থাপনা
  11. বিভিন্ন সেক্টরের জন্য পরিবেশ নীতিমালা প্রণয়ন
  12. গ্রীন স্ট্রাটেজিক পরিকল্পনা গ্রহণ
  13. পরিবেশ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা প্রভৃতি।
ব্যাংকসমূহ পরিবেশ বান্ধব বিভিন্ন ধরনের পন্য উদ্ভাবনে আর্থিক সহায়তা, পরিবেশ বান্ধব প্রকল্প তৈরির মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সহায়তা, অনলাইন ব্যাংকিং সুবিধা, ছাদের উপরে সোলার প্যানেল গঠনে সহায়তা, আধুনিক প্রযুক্তির হাইব্রীড হফম্যান ক্লীন/ট্যানেল ক্লীন সম্বলিত ইট ভাটা তৈরিতে সহায়তা, এলপিজি বোতলিকরণ প্লান্ট, ওয়েল রিফাইনারী প্লান্ট, বায়ো-ফার্টিলাইজার প্লান্ট, প্রবাহমান ট্রিটমেন্ট প্লান্ট সমৃদ্ধ প্রকল্প ইত্যাদি তৈরি করা বা তৈরিতে সহায়তা প্রদান করে আসছে। নিচের ছকে ২০১৪-১৫ থেকে ২০১৭-১৮ আর্থিক বছরে গ্রীন ফাইনান্সিং এ বিনিয়োগের পরিমান এবং পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর project এর সংখ্যা ও ঝুঁকিমুক্ত করার নিমিত্তে বিনিয়োগকৃত অর্থের পরিমাণ দেখানো হল।
 

Author: Boighar
Article Title: Some Focus Written (নিরাপদ খাদ্য, Financial Inclusion, BS-1,Green Banking, S. Net Program in Bangla
Source URL: Boighar-https://www.boighar.com/home
Quote & Share Rules: Short quotations can be made from the article provided that the source is included, but the entire article cannot be copied to another site or published elsewhere without permission of the author.

Joyjit Das

New Member
Jul 31, 2018
6
4
3
26
Credits
38
জ্ঞানপিপাসুদের জন্য জ্ঞান আহরনের সীমা থাকে নাহ।বইঘর প্রকাশনীর পক্ষ হতে আপ্লোড কৃত সব কটি ফাইলই যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ,যা আমাদের জন্য অসংখ্য উপকারী।পাশাপাশি যারা চাকরীপ্রার্থী তাদের জন্যও।